বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩rd জুন ২০১৮

৩১ মে, ২০১৮ তারিখে মিসেস তাসমিমা হোসেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দৈনিক ইত্তেফাক বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) পরিদর্শন করেন।


প্রকাশন তারিখ : 2018-06-01

দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিএফআরআই এর অর্জন প্রশংসনীয়ঃ

তাসমিমা হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) কর্তৃক আয়োজিত ”মৎস্য প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক ২ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তরের অডিটরিয়ামে অদ্য ৩১ মে, ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মিসেস তাসমিমা হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক জাহানের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অধ্যাপক রেবেকা ইয়াসমিন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, মৎস্য খাত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। দেশের মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের প্রাণীজ আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে মাছ থেকে। একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে মাছের কোন বিকল্প নেই। একসময় বাংলাদেশে মৎস্য সম্পদের পর্যাপ্ততা ছিল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাবে দেশের মৎস্য খাত হুমকির সম্মুখীন হয়। এ অবস্থা থেকে উঠে এসে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ চর্তুথ। মৎস্য খাতের এ অর্জনে অন্যতম কৃতিত্বের দাবিদার বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। বিলুপ্তপ্রায় মাছগুলো ফিরে এসেছে এখন খাবার টেবিলে যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে বলে। তিনি বলেন, এক সময় দেশের বাইরের তৈরী মুক্তা দেখে অবাক হতাম কিন্তু বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে এখন প্রণোদিত উপায়ে মুক্তা উৎপাদনের গবেষণা কার্যক্রম চলছে বলে তিনি বিএফআরআই এর বিজ্ঞানীদের প্রশংসা করেন। এ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা মাছ খেতে চায়না। তাই মাছের রেডি টু ইট খাদ্য তৈরীর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের বলেন যা দেশের রপ্তানিতেও ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান । তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো যেন দেশের সকল স্তরের মানুষ পেতে পারে এই লক্ষ্যে গণমাধ্যমগুলোর কাজ করতে হবে। কৃষি সাংবাদিকতার আওতায় মৎস্য গবেষণার সংবাদগুলোকে গুরুত্বসহকারে প্রচার করতে হবে। যা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

 

প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে অনুষ্ঠানের সভাপতি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট একমাত্র জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান । মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইনস্টিটিউট থেকে ইতোমধ্যে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ৬০টি লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।  ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত এসব প্রযুক্তি মৎস্য অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের ফলে দেশে মাছের উৎপাদন ৪১.৩৪ লক্ষ মে.টন ছাড়িয়ে গেছে। দেশ এখন মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৪র্থ এবং মৎস্যচাষে ৫ম স্থান অর্জন করেছে। তেলাপিয়া উৎপাদনে আমরা এখন বিশ্বে ৪র্থ (উৎপাদন প্রায় ৪.০ লক্ষ মে.টন) এবং এশিয়াতে ৩য়। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমাদের যেমন আত্মতৃপ্তির সুযোগ আছে ঠিক তেমনি আমাদের সামনে রয়েছে বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ। তন্মেধ্য অন্যতম হচ্ছে চাষাবাদের ক্ষেত্রে গুণগতমানসম্পন্ন মাছের পোনা উৎপাদন এবং স্বল্প মূল্যের গুণগতমানসম্পন্ন মৎস্য খাবার সরবরাহ। মৎস্য চাষে মাছের খাদ্য একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাছের খাদ্যে সঠিক পরিমাণে প্রোটিন, চর্বি, কার্বোহাইড্রোট ইত্যাদি উপাদান না থাকলে মাছের উৎপাদন ব্যাহত এবং এতে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আশির দশক থেকে মাছের খাদ্য ও পুষ্টিমান নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। দেশের প্রচলিত বিভিন্ন উপাদান নিয়ে মাছের স্বল্পমূল্যের খাদ্য তৈরীর জন্য গবেষণা করে ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মোট ৬৩ জন ময়মনসিংহ প্রতিনিধি প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর গবেষণা কার্যক্রমের উপর পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপনা করেন ইনস্টিটিউট এর পরিচালক (গবে. ও পরি.) ড. মো. নুরুল্লাহ। এতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউট এর পরিচালক (অর্থ ও প্রশা.) ড. মো. খলিলুর রহমান। পরে তিনি ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন চলমান গবেষণা কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করেন।


Share with :

Share with :

Facebook Facebook