বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ ও গবেষণা (বিএফআরআই অংশ)

প্রকল্পের নাম

বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাঁকড়ার চাষ এবং গবেষণা প্রকল্প (বিএফআরআই অংশ)

প্রকল্প পরিচালকের নাম ও ছবি

ড. ডুরিন আকতার জাহান

উদ্যোগী মন্ত্রণালয়

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

বাস্তবায়নকারী সংস্থা

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট

প্রকল্প বাস্তবায়নকাল

জুলাই ২০১৫ - জুন ২০১৮

প্রকল্প ব্যয় (লক্ষ টাকা)

মোট                       জিওবি                 প্রকল্প সাহায্য

১৩৮৬.৩৫              ১৩৮৬.৩৫                    -

প্রকল্পের অর্থায়ন

জিওবি

প্রকল্প এলাকা

পাইকগাছা, খুলনা; সাতক্ষীরা সদর; রামপাল, বাগেরহাট, কোলাপাড়া,পটুয়াখালী; হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ; ঝিনাইগাতী, শেরপুর; আলমদিঘী, বগুড়া; কক্সবাজার সদর; এবং নাসিরনগর, ব্রাক্ষনবাড়ীয়া।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

  • বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাপ্ত কাঁকড়া ও কুচিয়ার প্রাপ্যতা নিরূপণ;
  • কাঁকড়া ও কুচিয়ার প্রজনন এবং চাষ ব্যবস্থাপনা কৌশল উদ্ভাবন;
  • ইনস্টিটিউটের লোনাপানি কেন্দ্র, পাইকগাছা; এবং সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, কক্সবাজার এর গবেষণাগার কাম হ্যাচারী স্থাপন;
  • কাঁকড়া এবং কুচিয়ার উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকারী ও বেসরকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও চাষীদের মাঝে সম্প্রসারণ;
  • ইনস্টিটিউটের লোনাপানি কেন্দ্র, পাইকগাছা, স্বাদুপানি কেন্দ্র, ময়মনসিংহ এবং স্বাদুপানি উপকেন্দ্র, সান্তাহারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা/পুকুর/সিষ্টার্নসমূহের সংস্কার ও উন্নয়ন।

প্রকল্পের পটভূমি

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অতীতে কুচিয়া ও কাঁকড়ার প্রাচুর্য্যতা থাকলেও আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রাপ্যতার বিবেচনায় কুঁচিয়া ও কাঁকড়া বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়। আদিবাসী ছাড়া বাংলাদেশের স্বল্প সংখ্যক সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী কুচিয়া ও কাঁকড়া খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে কুচিয়া ও কাঁকড়ার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ হতে চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, হংকং. তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, জাপান, যুক্তরাষ্ট এবং ইউরোপ কাঁকড়া আমদানি করে থাকে। সুন্দরবন হতে ১৯৮৪-৮৫ সালে ১০ মে.টন কাঁকড়া আহরিত হলেও ২০১১-১২ সালে ৯৭৮ মে.টন কাঁকড়া আহরিত হয়েছে। প্রায় ৬০ হাজার লোক কাঁকড়া আহরণ, ফ্যাটেনিং এবং ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। সমগ্র উপকূল বরাবর কাঁকড়া পাওয়া গেলেও সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় কক্সবাজার এর বৃহত্তর খুলনা ছাড়া অন্য উপকূলীয় অঞ্চল হতে কাঁকড়া আহরণ করা হয় না। দেশে ৮০-৮৫% কাঁকড়া প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরণ করা হচ্ছে।

‘মাড ইল’ (Mud Eel) নামে পরিচিত কুচিয়া মুলত: দেশীয় প্রজাতি। কুচিয়া খুবই পুষ্টিকর এবং ঔষুধি গুণসম্পন্ন। সাধারণত: অগভীর জলাশয়ে যেমন- হাওর বাওর, খাল বিল এবং প্লাবনভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে কুচিয়া পাওয়া যায়। প্রজাতিটি কিছুটা লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এবং চিংড়ির ঘেরে পাওয়া যায়। কুচিয়ার রপ্তানী চাহিদা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কুচিয়া রপ্তানী শুরু করেছে। ২০০৮-০৯ সালে কুচিয়া রপ্তানী থেকে ২.৯০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে ২০১১-১২ সালে ৬.৭৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেচে। বাংলাদেশ থেকে কুচিয়া আমদানী করে মূলত: চীন, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া। পূর্বে অভ্যন্তরীণ বদ্ধ এবং উম্মুক্ত জলাশয়ে কুচিয়া পাওয়া গেলেও অত্যাধিক আহরণ, বাসস্থান অবক্ষয়, জলজ পরিবেশ দূষণ এবং কীটনাশকের যথেচ্ছা ব্যবহারের ফলে এখন আর পাওয়া যায় না। IUCN মাছটিকে বিলুপ্ত প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মাছটি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কুচিয়া ও কাঁকড়া প্রজনন ও পোনা উৎপাদন এবং চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন, দেশীয় জ্ঞান সম্প্রসারণ, কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ ও ব্যবস্থাপনার উপর দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, দরিদ্র সুফলভোগী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কুচিয়া ও কাঁকড়ার বর্তমান সংখ্যা/ষ্টক নির্ণয় করা, সর্বোপরি কুচিয়া ও কাঁকড়া রপ্তানীর সুযোগ সৃষ্টির প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে ১৩৮৬.৩৫ লক্ষ টাকায় আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

 


Share with :

Facebook Facebook