বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশে ঝিনুক ও শামুক সংরক্ষণ, পোনা উৎপাদন এবং চাষ প্রকল্প

প্রকল্পের নাম

বাংলাদেশে ঝিনুক ও শামুক সংরক্ষণ, পোনা উৎপাদন এবং চাষ প্রকল্প

প্রকল্প পরিচালকের নাম ও ছবিঃ

ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

 

উদ্যোগী মন্ত্রণালয়

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

বাস্তবায়নকারী সংস্থা

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট

প্রকল্প বাস্তবায়নকাল

জুলাই ২০১৭ - জুন ২০২১

প্রকল্প ব্যয় (লক্ষ টাকা)

মোট                       জিওবি                 প্রকল্প সাহায্য

১১৩০.০০                ১১৩০.০০                     -

প্রকল্পের অর্থায়ন

জিওবি

প্রকল্প এলাকা

ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জ, কক্সবাজার, চাঁদপুর, বগুড়া, যশোর ও বাগেরহাট।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

১. অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঝিনুক ও শামুকের পোনা উৎপাদন ও চাষ প্রযুক্তির উদ্ভাবন।

২. বাংলাদেশে ঝিনুক ও শামুকের পপুলেশন ডিনামিক্স এর উপর বেইজ-লাইন তৈরী।

৩. ঝিনুক ও শামুক সংরক্ষণের জন্য সচেতনতা তৈরী এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান।

প্রকল্পের পটভূমি

বাংলাদেশের বিপুল জলরাশি বিভিন্ন ধরনের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণিতে পরিপূর্ণ। বাংলাদেশের স্বাদপানি ও লোনাপানিতে ১৬ প্রজাতির ঝিনুক পাওয়া যায়। ঝিনুকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো মুক্তা তৈরী। ঝিনুকের খোলস থেকে চুন তৈরী এবং ঝিনুকের মাসল অংশ হাঁস-মুরগীর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের অনেক দেশে ঝিনুকের মাংসল অংশ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে সাধারণত: আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা ঝিনুকের মাংসল অংশ খেয়ে থাকে। সামুদ্রিক ঝিনুক (ওয়েস্টার) একটি দামি সীফুড হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং অনেক দেশে এর উপর ভিত্তি করে খামার গড়ে উঠেছে। ১৯৯০ এর দশকে ভারতে সামুদ্রিক ঝিনুকের বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে। মানুষ ও জলজ পরিবেশ উভয়ের জন্য ঝিনুক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জলাশয় থেকে শৈবাল, জৈব পদার্থ এবং দ্রবীভূত ক্ষতিকারক উপাদান যেমন- ভারী ধাতু দূরীকরণে ঝিনুকের ভূমিকা রয়েছে। এইভাবে ঝিনুক প্রাকৃতিক পানি পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। জলজ খাদ্য শৃঙ্খলের ক্ষেত্রে ঝিনুক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং এরা জলজ খাদ্য শিকলের বিভিন্ন লেভের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে ঝিনুক চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবেশের কোন ক্ষতি না করে ঝিনুক চাষের মাধ্যমে মাছ আহরণের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠিসহ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবন জীবিকার উন্নয়ন উন্নয়ন সাধিত হবে।

দেশের বিভিন্ন জলরাশি যেমন পুকুর, খাল, বিল, হাওর ও বাওরে প্রায় ৪৫০ প্রজাতির শামুক পাওয়া যায়। এ মধ্যে Pila globosa (আপেল শামুক) ও Viviparus bengalensis (পন্ড স্নেইল) ব্যাপক মাত্রায় পাওয়া যায়। শামুকের ব্যাপক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ শামুকের মাংস খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। সাধারণত কিছু আদিবাসী ভিন্ন বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ শামুকের মাংস খাদ্য হিসেবে গ্রহণে অভ্যস্থ নয়। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে গলদা চিংড়ির খাদ্য হিসাবে দিনে প্রায় গড়ে ৬৬.৫ কেজি/হেক্টর শামুকের মাংস ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলোয় বসবাসরত উপজাতী জনগোষ্ঠিরা ক্ষুদ্র পরিসরে শামুকের চাষ করছে। শামুক চাষের ক্ষেত্রে আলাদা খাবার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। মাছ চাষের পুকুরে মাছের জন্য ব্যবহৃত খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ শামুক ভক্ষণ করে থাকে। শামুক পুকুরে বায়ো-ফিল্টার হিসেবে কাজ করে বিধায় পানির গুণাগুণ ভাল থাকে। মানুষ ও মাছের খাদ্য হিসেবে শামুকের চাহিদা থাকায় বাংলাদেশে শামুক চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে ফিশ মিলের বিকল্প হিসেবে শামুক ব্যবহার করা হয়। দেশের অনগ্রসর উপজাতি জনগোষ্ঠির স্বল্প খরচে প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য শামুক চাষ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। পরিকল্পিতভাবে পুকুরে মাছের সাথে শামুকের সমন্বিত চাষ বা এককভাবে শামুকের চাষ করার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির জীবন জীবিকার উন্নয়ন করা যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী মানুষের উচ্চ প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলের জন্য স্বাদুপানির আপেল শামুকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শামুক অতিমাত্রায় আহরণের ফলে ইকোলজিক্যাল অসামঞ্জস্যতা তৈরী হতে পারে বিধায় শামুকের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র সংরক্ষণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং চাষ ও প্রজনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঝিনুক ও শামুকের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন এবং চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন, দেশীয় জ্ঞান সম্প্রসারণ, ঝিনুক ও শামুকের চাষ ও ব্যবস্থাপনার উপর দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, দরিদ্র সুফলভোগী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, ঝিনুক ও শামুকের বর্তমান সংখ্যা/মজুদ নির্ণয় করা, সর্বোপরি ঝিনুক ও শামুক রপ্তানীর সুযোগ সৃষ্টির প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে ২৪৫৬.৮৮ লক্ষ টাকায় আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

 


Share with :