বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিএফআরআই এ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯ তম বৈঠক


প্রকাশন তারিখ : 2018-09-13

বিএফআরআই মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯ তম বৈঠক

আজ ১২ সেপ্টেম্বের ২০১৮ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯ তম বৈঠক বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) এর সদর দপ্তর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বাগেরহাট ০২ আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য মীর শওকাত আলী বাদশাহ, এমপি। বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মুহাম্মদ আলতাফ আলী, এমপি (বগুড়া-৭), মাননীয় সংসদ সদস্য বেগম শামছুন নাহার (এডভোকেট) এমপি (মহিলা আসন-২৯), মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, এমপি ( নেত্রকোনা-৩)। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব মো. রইছউল আলম মন্ডল। এছাড়াও  মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) এর সার্বিক কার্যক্রমের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।

উল্লেখ্য,বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার জন্য একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তর ময়মনসিংহে অবস্থিত। ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ৫টি কেন্দ্র ও ৫টি উপকেন্দ্র হতে পরিচালিত হয়ে থাকে। গবেষণা কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- স্বাদুপানি কেন্দ্র, ময়মনসিংহ, নদী কেন্দ্র, চাঁদপুর, লোনাপানি কেন্দ্র, পাইকগাছা, খুলনা, সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, কক্সবাজার এবং চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র, বাগেরহাট। উপকেন্দ্র ৫টি হচ্ছে নদী উপকেন্দ্র, রাঙ্গামাটি, প্লাবনভূমি উপকেন্দ্র, সান্তাহার, বগুড়া, স্বাদুপানি উপকেন্দ্র, যশোর, নদী উপকেন্দ্র, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী এবং স্বাদুপানি উপকেন্দ্র, সৈয়দপুর, নীলফামারী। ইনস্টিটিউট দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে জাতীয় চাহিদার নিরীখে গবেষণা পরিচালনা করে এ যাবত ৬০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এরমধ্যে ৪৯টি মাছের প্রজনন, জীনপুল সংরক্ষণ, জাত উন্নয়ন ও চাষাবাদ বিষয়ক এবং অপর ১১টি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক। এসব প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের ফলে দেশে মাছের উৎপাদন উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্ঠি হয়েছে। ২০০৯-১৮ অর্থ বছরে ইনস্টিটিউটের গবেষণা সাফল্যে গুলো নিম্নে  তুলে ধরা হলোঃ

ক)     রুই মাছের উন্নত জেনেটিক জাত উদ্ভাবন

ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে ২০০৯ সালে দেশীয় রুই মাছের নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করেত সক্ষম হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন নদী উৎস থেকে বন্যজাত সংগ্র্র্র্রহ করে ক্রসব্রিডিং পদ্ধতিতে প্রথম প্রজন্মের উন্নত রুইজাত উদ্ভাবন করা হয় যা বিদ্যমান জাত হতে ১৬ ভাগ অধিক উৎপাদনশীল। অধিক উৎপাদনশীল এসব মাছের জাত দেশ ব্যাপী সম্প্রসারণ করা হলে দেশে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মাছের উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। এ অবদানের জন্য ইনস্টিটিউটকে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১০ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।

খ)     বিপন্ন প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন ও জীন পুলসংরক্ষণ

স্বাদুপানির ২৬০টি মৎস্য প্রজাতির মধ্যে ৬৪টি প্রজাতি বর্তমানে বিপন্ন। ইনস্টিটিউট এ সকল বিপন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে কৃত্রিম ও নিয়ন্ত্রিত প্রজননের মাধ্যমেআলোচ্য সময়ে টেংরা, গুজি আইড়, চিতল, ফলি, কুচিয়া ও খলিসা মাছের পোনা উৎপাদনে সফলতা লাভ করেছে।  ফলে এসব মাছের চাষাবাদ হওয়ায় সম্প্রতিক কালে এদের প্রাপ্যতা বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মূল্য সাধারন ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কেন্দ্রে এসব মাছের লাইভ জীন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। টেংরা মাছের প্রজনন কৌশল উদ্ভাবনের জন্য ইনস্টিটিউট জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১৭ রৌপপদক লাভ করে।

এছাড়াও, মিঠাপানির বিলুপ্তপ্রায় বরালি (Baralius barila), খলিসা (Colisa fasciatus) এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কাইন মাগুর (Plotosus canius), চিত্রা (Scatophagus argus), দাতিনা (Pomadasys hasta) এবং তপস্যে (Polynemus paradiseus) মাছের জীনপুল সংরক্ষণের উপর বর্তমান গবেষণা চলমান রয়েছে।

গ.  কুচিয়ার পোনা উৎপাদন ও চাষ ব্যবস্থাপনা

কুচিয়া মাছ অত্যন্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন। আন্তর্জাতিক বাজারে এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিগত কয়েক বছর যাবৎ কুচিয়া রপ্তানি করে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কুচিয়ার যথেষ্ট চাহিদা থাকায় কুচিয়ার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ইনস্টিটিউট গবেষণা পরিচালনা করছে। ইনস্টিটিউটে ২০১৫ সালে নিয়ন্ত্রিত প্রজননের মাধ্যমে কুচিয়ার পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জিত হয়েছে। কুচিয়ার পোনা উৎপাদনের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে কুচিয়ার নির্বিচারে আহরণ হ্রাস পাবে এবং চাষাবাদ সহজতর হবে।

ঘ) কৈ মাছের রোগ নিরাময়ে ভেকসিন তৈরি

দেশে ভিয়েতনামী কৈ মাছের চাষ গত ৪/৫ বছরে ব্যাপক  জনপ্রিয় হয়ে উঠে। অধিক মুনাফার আশায় কতিপয় চাষী অধিক ঘনত্বে  (৪-৫ হাজার/শতক) কৈ মাছ পুকুরে চাষ করে। ফলে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে কৈ মাছের ব্যাপক মড়ক দেখা দেয়। অত:পর ২০১৪ সাল থেকে পরিচালিত গবেষণায় কৈ মাছের রোগের কারণ হিসেবে Streptococius agalactiae নামক ব্যাকটেরিয়াকে সনাক্ত করা হয় এবং এ জীবাণু দমনে ইনস্টিটিউট থেকে ভেকসিন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ইতোমধ্যে ইনস্টিটিউট থেকে ভেকসিন তৈরিতে সফলতা অর্জিত হয়েছে এবং বর্তমানে তা মাঠ পর্যায়ে চূড়াšত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা  হচ্ছে। শীঘ্রই ভেকসিন চাষীদের নিকট সহজলভ্য করা সম্ভব হবে। কৈ মাছের ভেকসিন তৈরী দেশ-বিদেশে এটাই প্রথম।

ঙ) মিঠা পানির ঝিনুকে ইমেজ মুক্তা উৎপাদন

ইনস্টিটিউট হতে মিঠাপানির ঝিনুকে (Lamellidens marginalis এবং L. corrianus) ইমেজ মুক্তা তৈরির কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৭-৮ মাসেই ঝিনুকে ১টি পুর্ণাঙ্গ ইমেজ মুক্তা তৈরী করা সম্ভব। সাধারণত মোম, খোলস, প্লাষ্টিক, ষ্টীল ইত্যাদি দিয়ে চাহিদা মাফিক তৈরিকৃত নকশাকে ঝিনুকের ম্যান্টাল টিস্যুর নিচে স্থাপন করে ইমেজ মুক্তা তৈরী করা হয়। ইমেজ মুক্তা উৎপাদনের পাশাপাশি দেশীয় ঝিনুকে (৬০-৭০ গ্রাম) নিউক্লি অপারেশনের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে (৮-৯ মাস) বড় ও গোলাকৃতির  মুক্তা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। অপরদিকে ২০১৬ সালে বিদেশ থেকে সংগৃহীত বড় আকৃতির মুক্তা উৎপাদনকারী ঝিনুক (৭০০-৮০০ গ্রাম) পুকুরে লালন-পালন করা হচ্ছে এবং প্রজননের মাধ্যমে এর পোনা উৎপাদনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংগৃহীত বিদেশী ঝিনুকের সংখ্যা বৃদ্ধির পর বড় আকৃতির এই ঝিনুকে মুক্তা উৎপাদনের  কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

চ) হালদা নদীতে রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা

হালদা নদী রুই জাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র। এ নদীতে উৎপন্ন পোনা ব্রুড উৎপাদনসহ মাছ চাষে ব্যবহৃত হয়। বিগত বছরগুলোতে প্রাকৃতিক, মানবসৃষ্ট এবং পানি দূষণের কারণে হালদা নদী হতে মাছের নিষিক্ত ডিম উৎপাদনের পরিমান দিন দিন হৃাস পেয়েছে। উল্লেখিত কারণে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট হালদা নদীর পরিবেশ, প্রতিবেশ, পানির গুণাগুণ ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার প্রভাব নির্ণয়ের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, রুই জাতীয় মাছের বিশুদ্ধ পোনা প্রাপ্তি তথা প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংক্ষণের স্বার্থে হালদা নদীতে সারা বছর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষেইনস্টিটিউটে কর্তৃক প্রণীত বেশ কিছু সুপারিশ বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন আছে।

ছ) ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে ষষ্ঠ অভয়াশ্রম চিহ্নিতকরণ

জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে জন্যঅভয়াশ্রম স্থাপনের উদ্দেশ্যে ইনস্টিটিউটের  নদী কেন্দ্র, চাঁদপুর হতে বিগত পাঁচ বছরের ধারাবাহিক গবেষণায় নদীতে জাটকার প্রাচুর্যতা, পানির গুণাগুনও পানির প্ল্যাংটন (খাদ্যকণা) প্রাচুর্যতার ভিত্তিতে ষষ্ঠ অভয়াশ্রম চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত এলাকা সমূহ হচ্ছে বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার নাছাকাটি পয়েন্ট, হরিনাথপুর পয়েন্ট ও ধুলখোলা পয়েন্ট এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর পয়েন্ট এবং বরিশাল সদর উপজেলার জুনাহার পয়েন্ট মোট এলাকা হচ্ছে প্রায় ৮২ কিলোমিটার। উক্ত এলাকায় ইলিশ/জাটকার ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রম বাস্তবায়ন করা গেলে বছরে প্রায় ৪,৩০০ কোটি অতিরিক্ত জাটকা ইলিশ জনতায় (Hilsa population) যুক্ত হবে বলে আশা করা যায় ।

জ)উপকূলীয় জলাশয়ে নোনা টেংরা ও পারশে মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষ সম্প্রসারণ

ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা খুলনা জেলার পাইকগাছাস্থ লোনাপানি কেন্দ্রে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে নোনা টেংরা ও পারশে মাছের ব্যাপক পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে। উপকূলীয় এ দুটি মাছের কৃত্রিম প্রজনন এবং পোনা উৎপাদনের কালে উপকূলীয় অঞ্চলে এদের চাষাবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নোনা টেংরা মাছের প্রজনন কৌশল উদ্ভবানের জন্য ইনস্টিটিউট জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০০৯ স্বর্ণপদক লাভ করে। উল্লেখ্য উপকূলীয় ঘেরে চিংড়ি মাছের বিভিন্ন রোগবালাই হওয়ায় চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এক্ষেত্রে  চিংড়ির সাথে নোনা টেংরা ও পারশে মাছের মিশ্র চাষ করা হলে ক্ষতি পুষিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ঝ) হ্যাচারিতে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন

প্রাকৃতিক পরিবেশে জোয়ার-ভাটা বিধৌত প্যারাবন সমৃদ্ধ মোহনা এলাকায় কাঁকড়ার আবাসস্থল। পরিপক্ক স্ত্রী কাঁকড়া ডিম ও পোনা ছাড়ার জন্য গভীর সমুদ্রে পরিব্রাজন করে বিধায় হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনের জন্য বেরিড বা মা কাঁকড়া পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। ইনস্টিটিউটের পাইকগাছাস্থ লোনাপানি কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমিক গবেষণার মাধ্যমে পরিপক্ক মা (gravid) কাঁকড়া হতে প্রজনন উপযোগী ডিম বহনকারী (berried) মা কাঁকড়া উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে, ৩০ পিপিটি মাত্রার লবণ পানি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৬৯% berried কাঁকড়া উৎপাদিত হয়েছে, যাদের ডিম নিষিক্তের হার গড়ে ৯৩% এবং পোনা উৎপাদনের সাফল্য ৯৮% পর্যন্ত পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য হ্যাচারীতে কাঁকড়ার পোনা মৃত্য হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বর্তমান গবেষণা অব্যাহত আছে।

ঞ) উপকূলে সী-উইড চাষ

ইনস্টিটিউটের কক্সবাজারস্থ সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র থেকে পুষ্টিমান সমৃদ্ধ এবং বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন সী-উইডের চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে।  গবেষণা পর্যবেক্ষণে কক্সবাজারস্থ সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বাকখালী মোহনা ও টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ প্রজাতির সী-উইডের  সন্ধান পাওয়া গেছে, এর মধ্যে ১০ প্রজাতির সী-উইডকে বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। অত:পর ৩ প্রজাতির (Sargassum oligocystum, Caularpa racemosaHypnea spp.) সী-উইড সেন্টমার্টিন দ্বীপ, ইনানী ও বাকখালীতে horizontnl net ব্যবহার করে চাষ করা হয়। মোট ৬০ দিনের চাষে প্রতি বর্গমিটারে সর্বোচ্চ ১ কেজি পর্যন্ত সী-উইড উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু সেন্টমার্টিন দ্বীপ নয় উপকূলের সুবিধাজনক স্থানে সী-উইড চাষ করা। যেকোন খাদ্যে পরিমিত পরিমাণ সী-উইডের পাউডার বা সিদ্ধ করা তরল নির্যাস ব্যবহার করে খাদ্যের (স্যুপ, সালাদ, নুডুলস ইত্যাদি) পুষ্টিমান বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

ট) ‘‘বিএফআরআই মেকানিক্যাল ফিশ ড্রায়ার” ব্যবহারের মাধ্যমে গুণগতমানসম্পন্ন শুটকি মাছ উৎপাদন

স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ শুটকি তৈরীর লক্ষ্যে বিএফআরআই এর সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, কক্সবাজার কর্তৃক সময় সাশ্রয়ী ও দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী ‘‘বিএফআরআই মেকানিক্যাল ফিশ ড্রায়ার” উদ্ভাবন করা হয়েছে। ড্রায়ারটিতে সৌর ও বিদ্যুৎ শক্তি উভয়ই ব্যবহার করা যায়। ফিশ ড্রায়ারের মূল কাঠামো মেটালিক যা জিআই পাইপ/এংগেল বা এসএস-বারএর তৈরি। এর একদিকে বাতাস প্রবেশের জন্য ছোট মেশের জালের দরজা ও অন্য দিকে বাতাস বের হওয়ার জন্য এক বা একাধিক এগজস্ট ফ্যান লাগানো থাকে। জালের দরজা ছাড়া কাঠামোর সকল পাশে ৯ মিমি পুরুত্বের স্বচ্ছ সেলুলয়েড পলিথিন লাগানো। রাতে বা মেঘলা দিনে মাছ শুকানোর জন্য এই ড্রায়ারে হট এয়ার ফ্যান বা হিটিং কয়েল স্থাপন করা হয়। স্বচ্ছ সেলুলয়েডের মধ্য দিয়ে সূর্য কিরণ ড্রায়ারে প্রবেশ করে ও পাটাতনের কালো অংশে শোষিত হয়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা ভেতরের বাতাসকে গরম করে। এই গরম বাতাস ফ্যানের মাধ্যমে মাছের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দ্রুত মাছ শুকিয়ে যায়। নিরাপদ শুটকি প্রনীতে অনেক উদ্ধোক্তা বর্তমানে এই ড্রয়ার ব্যবহার করে।

ঠ) ইনস্টিটিউটের গবেষণা জোরদারকরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণ াইনস্টিটিউট কর্তৃক উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান, পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের জন্য বর্তমান মৎস্য বান্ধব সরকারের আমলে ৯ বছরে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ইনস্টিটিউটে ৭ টিসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ ৪টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।

 

বাগেরহাট জেলায় চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রস্থাপন প্রকল্পঃ

চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগ নির্ণয় ও প্রতিকার এবং চিংড়িজাত পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণার মাধ্যমে উপযুক্ত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ২,২৬৮লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাগেরহাটে একটি আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন।

 

জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পঃ

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ  উৎপাদন বৃদ্ধি স¤পর্কিত গবেষণা পরিচালনা এবং ইলিশ গবেষণা বোট ক্রয় ও গবেষণাগার আধুনিকায়নের জন্য ৪৯২.২০লক্ষ টাকা ব্যয়ে ইনস্টিটিউটের  চাঁদপুরস্থ নদী কেন্দ্রে জাটকা সংরক্ষণ, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং গবেষণা প্রকল্প (বিএফআরআই-অংশ)’ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ‘এমভি রূপালী ইলিশ’ নামে একটি আধুনিক গবেষণা  জাহাজ ক্রয় করা হয়েছে। উক্ত জাহাজ ব্যবহারের মাধ্যমে ইলিশ গবেষকগণ বড় বড় নদ-নদী ও মোহনা অঞ্চলে গবেষণা পরিচালনায় সক্ষমতা অর্জন করেছেন। ফলে গবেষণা পরিচালনার  মাধ্যমে চাঁদপুর ও শরিয়তপুর জেলার মধ্যবর্তী স্থানে মেঘনা ও পদ্মা নদীর মিলনস্থলে ২০কিমি. এলাকাকে ইলিশের ৫ম অভয়াশ্রম এবং বরিশাল জেলার হিজলা ও মেহিন্দিগঞ্জ উপজেলার ৮২ কিলোমিটার নদী এলাকাকে উচ্চ অভায়শ্রম হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। জাটকা রক্ষা, ভরা প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা, অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা এবং জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ফলে বিগত দশকের তুলনায় ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজনন সাফল্য ৩৫ গুণ এবং জাটকার প্রাচুর্য ১৪৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ইলিশের বর্তমান উৎপাদন ৫ লক্ষ মে.টন ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পঃ ইনস্টিটিউটের নদী কেন্দ্রসহ অন্যান্য কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কার এবং উন্নয়নে ৩,৯৪৩.২৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আলোচ্য উন্নয়ন প্রকল্পর ০১-০৭-২০১০ থেকে ৩১-১২-২০১৫ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হয়। তাছাড়া উক্ত প্রকল্পের আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। ফলে ইনস্টিটিউটের অবকাঠামোগত ও গবেষণা সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

জলজ পরিবেশ ও উৎপাদনশীলতার উপর মৎস্যচাষে ব্যবহৃত ড্রাগস ও কেমিকেলস এর ক্ষতিকর প্রভাব নির্ণয় প্রকল্পঃ

কৃষি জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশকসহ মাছচাষে ব্যবহৃত বিভিন্ন ড্রাগস ও কেমিক্যালস এর তালিকা তৈরি, উৎস সনাক্তকরণ এবং জলজ পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব নির্ণয়ে ১,৬১৭.৭৬লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫ বছর মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্পটি ইনস্টিটিউট থেকে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

 

ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রকল্প (আইএপিপি-বিএফআরআই কম্পোনেন্ট):

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে উক্ত প্রকল্পেটি বাস্তবায়ন করা হয়। ৫ বছর মেয়াদে বাস্তবায়িত উক্ত কম্পোনেন্ট এর প্রকল্প ব্যয় ছিল ১,৩৪৬.১৬ লক্ষ টাকা। দেশের রংপুর ও বরিশাল বিভাগে ৮টি জেলার ৫৪টি উপজেলায় এ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত ৮টি হ্যাচারি অপারেটরদের মাঝে তেলাপিয়া, কৈ ও পাঙ্গাস মাছের উন্নত জার্মপ্লাজম বিতরণ ও চাষপ্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ঐসব এলাকায় মাছচাষে কৈ জনপ্রিয় করা হয়।

 

কাপ্তাই লেকে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ(কম্পোনেন্ট-সি, বিএফআরআইঅংশ) প্রকল্পঃ

কাপ্তাই লেকে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে বিকল্প চাষাবাদ পদ্ধতির উন্নয়ন, লেকের উৎপাদনশীলতা নিরূপণ এবং সর্বোপরি জলাশয়ের টেকসই ও স্থায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা কৌশল উদ্ভাবনে আলোচ্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয় এবং বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪৮৬.০০লক্ষ টাকা। আলোচ্য প্রকল্পের কাপ্তাই লেকে খাঁচায় ও ক্রীকে মাছ চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

 

মুক্তাচাষ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পঃ

দেশে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় টেকসই মুক্তাচাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালনার নিমিত্ত ১,২৩৬.২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আলোচ্য প্রকল্পটি ৫ বছর মেয়াদে ইনস্টিটিউটে চলমান রয়েছে। ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা  মুক্তা তৈরির সঠিক কৌশল ইতোমধ্যে আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছেন এবং মাছের সাথে ঝিনুকে মুক্তা চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। মুক্তা উৎপাদনকারী অপারেশনকৃত ঝিনুকের বেঁচে থাকার হার ৬০% ও মুক্তা তৈরির হার ৯০% গবেষণায় একটি ঝিনুক থেকে সর্ব্বোচ্চ ১২টি মুক্তা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। আট মাসে সর্বোচ্চ ৫ মিমি. এবং গড়ে ৩ মিমি. আকারে মুক্তা তৈরি হয়। তাছাড়া, ঝিনুকে ইমেজ মুক্তা উৎপাদনে ইতোমধ্যে সফলতা অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে বিদেশ থেকে সংগ্রহীত বড় আকৃতির ঝিনুকের প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন গবেষণা চলমান আছে।

 

বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাঁকড়ার চাষ এবং গবেষণা প্রকল্প (বিএফআরআই অংশ): কাকঁড়া ও কুচিয়ার আর্ন্তজাতিক বাজারে যথেষ্ঠ মূল্য থাকায় এর অনুবাধন করে ৩ বছর মেয়াদে ১৩৮৬.৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ইনস্টিটিউটের ১ টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। উক্ত প্রকল্পের আওতায় কাঁকড়া ও কুচিয়ার পোনা উৎপাদন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউটে গবেষণা চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে নিয়জিত কাঁকড়া ও কুচিয়ার পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জিত হয়েছে। কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনের প্রাথমিক সফলতা অর্জিত হয়েছে।

 

কারিগরি সহায়তা প্রকল্প সার্পোট টু সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট অব দা বে অব বেঙ্গল লার্জ মেরিন ইকো সিস্টেম প্রকল্পঃ

বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সম্পদের অতি আহরণ, পরিবেশ বিপর্যয়, দূষণ ইত্যাদি সমস্যা সমাধানসহ এর যথাযথ উন্নয়নের জন্য GEF ও অন্যান্য দাতা সংস্থার অর্থায়নে Sustainable Management of the BOBLME (Bay of Bengal Large Marine Ecosystem শিরোণামে কারিগরি সহায়তা প্রকল্প বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী ৭ টি দেশের সাথে বান্তবায়ন করেছে। Co-Financing ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে ১৪৮.৫০লক্ষ টাকা ব্যয়ে এইপ্রকল্প হতেএতদ অঞ্চলের মানুষের দারিদ্রতা হ্রাসকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেএকটি সমন্বিত Strategic Action Plan (SAP) প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

ইমপেক্ট এসেসম্যান্ট অব আপস্ট্রিম ওয়াটার উইথড্রল টু কনজার্ভ ন্যাচারাল ব্রিডিং হ্যাবিটেট অব মেজর কার্পস ইন দি রিভার হালদা প্রকল্পঃ

বাংলাদেশের কার্প জাতীয় মাছের একমাত্র প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ড্রাস মিশ্রন, পানি দূষণ এবং মানব  সৃষ্ট নানাবিধ সমস্যা সমাধান কল্পে গবেষণা পরিচালনার জন্য Impact Assessment on  Upstream Water Withdrawal to Conserve Natural Breeding Habitat of Major Carps in the River Halda শিরোনামে ২০০লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও প্রজনন অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রণীত সুপারিশমালার আলোকে স্বাল্প মেয়াদি ও র্দীঘ মেয়াদি এ্যাকশন প্লান প্রনয়ন করা হয়েছে। এসব এ্যাকশন প্লান বাস্তবায়নের করা হলে হালদা নদীকে কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পূণরক্ষা করা সম্ভব হবে।


Share with :

Share with :

Facebook Facebook